বিশ্ববাজারে কমলেও দেশের বাজারে এখনো ঊর্ধ্বমুখী এলাচের দর। গত দুদিনে মসলাপণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা। দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন ব্রোকার ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্যমতে, দুদিন আগেও প্রতি কেজি ভারত থেকে আমদানিকৃত এলাচের (২০২৪-২৮ মেয়াদি) দাম ছিল ৪ হাজার ৩৮০ টাকা। গতকাল তা বেড়ে ৪ হাজার ৫৭০ থেকে ৪ হাজার ৫৮০ টাকায় পৌঁছেছে।
বর্তমানে ভারত ও গুয়াতেমালায় নতুন মৌসুমের এলাচ বিক্রি শুরু হয়েছে। ফলে এ সময় পুরনো মৌসুমের এলাচের দাম স্বাভাবিকভাবেই কমে আসার কথা। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, প্রধান আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো খাতুনগঞ্জকেন্দ্রিক। এ বাজারের মুষ্টিমেয় কয়েকটি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান এলাচের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে মসলাপণ্যটির দাম বেড়েছে।
দেশের বাজারে কিছুদিন আগেও পাইকারিতে প্রতি কেজি এলাচের দাম ৪ হাজার টাকার নিচে ছিল। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বাজারে এলাচ আমদানি হয় মূলত ভারত ও গুয়াতেমালা থেকে। ফলন ভালো হওয়ায় এ দুই দেশেই পণ্যটির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আগামী নিলামগুলোয় তা আরো কমে যেতে পারে।
ভারতের স্পাইসেস বোর্ড ও গুয়াতেমালার এলাচ নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর গুয়াতেমালায় প্রতি কেজি নতুন (২০২৫-২৯ মেয়াদি) এলাচ বেচাকেনা হয়েছে সর্বনিম্ন ১০ ডলার ৬২ সেন্টে (প্রায় ১ হাজার ২৯৯ টাকা)। এ সময় মাঝারি মানের এলাচের নিলাম মূল্য ছিল ১৭ ডলার ৪৪ সেন্ট (২ হাজার ১৩৩ টাকা)। এছাড়া সবচেয়ে ভালো মানের এলাচের নিলাম মূল্য ছিল ২৪ ডলার ২৬ সেন্ট (২ হাজার ৯৬৭ টাকা)।
আরো জানা যায়, সম্প্রতি সর্বনিম্ন মানের ভারতীয় এলাচ নিলামে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২৫৭ টাকায়। এ সময় মাঝারি ও ভালো মানের এলাচের দাম ছিল যথাক্রমে কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৩০১ ও ৩ হাজার ৮৪৮ টাকা।
মসলা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় সব ধরনের মসলাপণ্যের চাহিদা ও দাম দুটোই নিম্নমুখী। দেশের বাজারে বর্তমানে জিরার দাম কমে কেজিপ্রতি ৫০০-৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া হলুদ ও মরিচের বাজারমূল্যও কমতে শুরু করেছে।
খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী রতন রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এলাচের বাজার উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরবরাহ ও দামের ওপর নির্ভর করে। দুই বছর আগেও দেশে মসলাপণ্যটির কেজিপ্রতি দাম ছিল ২ হাজার টাকার কম। উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশের ফলন খারাপ হওয়ার পাশাপাশি দেশে শুল্ক বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে এলাচের দাম পাইকারিতে ৫ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে উৎপাদনকারী দেশগুলোয় ফলন বাড়লেও এখনো দাম কমছে না। কারণ ট্রেডিং বাণিজ্যে যুক্ত ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের মধ্যে মজুদ প্রবণতা বেশি।’